AI দিয়ে ছবি বানানোর যত টুল আছে, তার মধ্যে Midjourney নিয়ে মানুষের আগ্রহ সবচেয়ে বেশি। কারণটা সোজা। একই বর্ণনা অন্য টুলে দিলে যে ছবি আসে, Midjourney-তে দিলে সেটা প্রায়ই বেশি রুচিশীল, বেশি গোছানো, দেখতে অনেকটা পেশাদার শিল্পীর হাতে আঁকা ছবির মতো লাগে।
তবে টুলটা নতুনদের জন্য একটু ধাঁধার মতো। ফ্রি প্ল্যান নেই। দাম গুনতে হয় ছবির সংখ্যা ধরে নয়, GPU সময় ধরে। কমান্ড আর প্যারামিটারের একটা আলাদা ভাষা আছে। তার ওপর মডেলের ভার্সন বদলায় কয়েক মাস পরপর, আর প্রতিটা ভার্সনে কিছু ফিচার যোগ হয়, কিছু বাদ পড়ে।
এই গাইডে গোড়া থেকে শুরু করছি। অ্যাকাউন্ট খোলা, প্ল্যান বাছা, প্রথম ছবি বানানো, প্রম্পট লেখার নিয়ম, প্যারামিটার, স্টাইল রেফারেন্স, ছবি এডিট, আর খরচ বাঁচানোর উপায়, সবই এক জায়গায়।
লেখার তথ্য নভেম্বর ২০২৬ পর্যন্ত। Midjourney খুব দ্রুত বদলায়। দাম আর ফিচার নিয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে অফিসিয়াল সাইটে একবার মিলিয়ে নেবেন।
Midjourney আসলে কী
Midjourney একটি টেক্সট-টু-ইমেজ টুল। আপনি ইংরেজিতে কয়েক লাইনের বর্ণনা লেখেন, ও চারটি ছবির একটি গ্রিড বানিয়ে দেয়। সেখান থেকে একটা বেছে নিয়ে বড় করা যায়, বদলানো যায়, কিংবা পুরো ছবির একটা অংশ আলাদা করে নতুন করে আঁকানো যায়। ছবি থেকে ছোট ভিডিও বানানোর অপশনও আছে।
ChatGPT বা Gemini-র সাথে মূল পার্থক্য হলো চরিত্র। ওরা নির্দেশ মানতে বেশি পারদর্শী। Midjourney নান্দনিকতায় এগিয়ে। আপনি যা লিখলেন, তার চেয়েও সুন্দর কিছু বানিয়ে ফেলার একটা ঝোঁক এর মধ্যে আছে। আবার সেই কারণেই কখনো কখনো আপনার লেখা নির্দেশের বাইরে চলে যায়।
প্ল্যান ও খরচ
প্রথমেই খারাপ খবরটা। Midjourney-র কোনো ফ্রি প্ল্যান নেই, কোনো ফ্রি ট্রায়ালও নেই। ২০২৩ সালের এপ্রিলে অপব্যবহারের কারণে ট্রায়াল বন্ধ হয়েছে, তারপর আর ফেরেনি। ব্যবহার করতে হলে টাকা দিয়ে সাবস্ক্রিপশন নিতেই হবে।
চারটি প্ল্যান আছে:
- Basic, মাসে ১০ ডলার। প্রায় ৩.৩ ঘণ্টা ফাস্ট GPU সময়, মোটামুটি ২০০টি গ্রিডের মতো। Relax মোড নেই।
- Standard, মাসে ৩০ ডলার। ১৫ ঘণ্টা ফাস্ট সময়। ছবির ক্ষেত্রে আনলিমিটেড Relax মোড।
- Pro, মাসে ৬০ ডলার। ৩০ ঘণ্টা ফাস্ট সময়, Relax মোড, আর Stealth মোড। Stealth মোডে বানানো ছবি পাবলিক গ্যালারিতে দেখা যায় না।
- Mega, মাসে ১২০ ডলার। ৬০ ঘণ্টা ফাস্ট সময়, একসাথে আরও বেশি জব চালানোর সুযোগ।
বছরের টাকা একবারে দিলে প্রায় ২০ শতাংশ ছাড় মেলে। ফাস্ট সময় শেষ হয়ে গেলে ঘণ্টা প্রতি ৪ ডলারে বাড়তি সময় কেনা যায়। আর প্রতি মাসের ফাস্ট ঘণ্টা পরের মাসে জমা থাকে না।
"ফাস্ট" আর "Relax" শব্দ দুটো বুঝে নেওয়া জরুরি। ফাস্ট মোডে আপনার ছবি সাথে সাথে বানানো শুরু হয়, কিন্তু প্ল্যানের ঘণ্টা থেকে সময় কাটে। Relax মোডে সময় কাটে না, তবে আপনাকে লাইনে দাঁড়াতে হয়। ছবি আসতে কয়েক মিনিট লাগতে পারে।
কোন প্ল্যান নেবেন? শখের কাজ বা পরীক্ষার জন্য Basic চলে, কিন্তু ঘণ্টা দ্রুত ফুরোবে। নিয়মিত ব্যবহার করলে Standard-ই সবচেয়ে বাস্তবসম্মত, কারণ Relax মোড থাকলে ঘণ্টার চিন্তা অনেকটাই কমে যায়। Pro নিতে হয় তখন, যখন কাজ গোপন রাখা দরকার।
পেমেন্টের জন্য আন্তর্জাতিক লেনদেন চালু থাকা ডলার কার্ড লাগবে। বাংলাদেশের ব্যাংকগুলোর কার্ডে এই সুবিধা আলাদা করে চালু করাতে হতে পারে, তাই সাবস্ক্রাইব করার আগে ব্যাংকে জেনে নিন।
অ্যাকাউন্ট খোলা ও প্রথম ছবি
Midjourney এখন দুই পথে চলে: ওয়েব অ্যাপ (midjourney.com) আর Discord। দুটোই একই অ্যাকাউন্টে বাঁধা, তাই এক জায়গায় বানানো ছবি অন্যটাতেও দেখা যায়।
আগে নতুনদের Discord-এ এক হাজার ছবি বানাতে হতো, তারপর ওয়েব অ্যাপ খুলত। সেই শর্ত এখন আর নেই। সোজা ওয়েবে গিয়ে শুরু করা যায়।
নতুন হলে ওয়েব অ্যাপ দিয়েই শুরু করুন। প্রথম ছবির ধাপগুলো এরকম:
- midjourney.com-এ গিয়ে Google বা Discord অ্যাকাউন্ট দিয়ে সাইন আপ করুন।
- প্ল্যান বেছে নিয়ে পেমেন্ট সম্পন্ন করুন।
- ওপরের Imagine বার বা Create বক্সে বর্ণনা লিখুন।
- কয়েক সেকেন্ড অপেক্ষা করুন। চারটি ছবির একটি গ্রিড আসবে।
- পছন্দের ছবিটি খুলে বড় করুন, বা আরও বৈচিত্র্য দেখতে Vary চাপুন।
Discord ব্যবহার করলে প্রম্পটের আগে /imagine লিখতে হয়। পাবলিক চ্যানেলে অন্য সবার ছবির ভিড়ে আপনারটা হারিয়ে যায়, তাই Midjourney বটকে সরাসরি মেসেজ (DM) পাঠানোই ভালো।
ওয়েব অ্যাপ চেনা
ওয়েব অ্যাপে তিনটি জায়গা সবচেয়ে বেশি কাজে লাগবে।
Create। এখানে প্রম্পট লিখে ছবি বানান। Imagine বারের পাশে সেটিংসের বোতাম আছে। সেখান থেকে ছবির অনুপাত, স্টাইলাইজ, ভার্সন সবই বেছে নেওয়া যায়, প্যারামিটার মুখস্থ করতে হয় না। ছবি ড্র্যাগ করে বারে ফেলে দিলে সেটা রেফারেন্স হিসেবে যুক্ত হয়ে যায়।
Organize। আপনার সব ছবির আর্কাইভ। ফোল্ডার বানানো, ফেভারিট রাখা, পুরোনো ছবি খুঁজে বের করার কাজ এখানে হয়।
Editor। যেকোনো ছবির ওপর খুঁটিনাটি পরিবর্তন করার জায়গা। কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ টুল:
- Vary Region। ছবির একটা অংশ ব্রাশ দিয়ে দাগ দিয়ে শুধু সেটুকু নতুন করে বানানো। চরিত্রের মুখ ঠিক হলো না? শুধু মুখটা বদলান।
- Pan। ছবির কোনো এক দিকে ক্যানভাস বাড়িয়ে নতুন অংশ এঁকে নেওয়া।
- Zoom Out। ছবিটাকে পিছিয়ে এনে চারপাশে আরও দৃশ্য যোগ করা।
- Remix। ছবি একই রেখে প্রম্পটের কিছু অংশ বদলানো।
একটা সতর্কতা আছে। সব ফিচার সব ভার্সনে কাজ করে না। কোন টুল কোন মডেলে চলে, তা নিচে ভার্সনের অংশে বলছি।
২০২৬ সালে কোন ভার্সন চলছে
Midjourney-র মডেলগুলোকে ভার্সন নম্বর দিয়ে চেনা যায়, আর নতুনটা সবসময় সবচেয়ে ভালো, এমনটা ভেবে নেওয়া ঠিক না। ২০২৬ সালে সময়রেখাটা মোটামুটি এরকম:
- V7 ২০২৫ সালের এপ্রিলে আসে। প্রায় এক বছর ডিফল্ট ছিল। Draft Mode আর Omni Reference এই ভার্সনের ফিচার।
- V8 ২০২৬ সালের মার্চে পরীক্ষামূলকভাবে আসে। গতি অনেক বেড়ে যায়, আর ছবির রেজোলিউশন সরাসরি 2K পর্যন্ত যেতে পারে (
--hdপ্যারামিটারে)। - V8.1 জুনে ডিফল্ট হয়।
- V8.2 ২৪ জুলাই ২০২৬ থেকে ডিফল্ট। এই আপডেটের ফোকাস ছিল ছবির নান্দনিকতা, কম মানের ছবি আসার প্রবণতা কমানো, আর Personalization উন্নত করা।
অর্থাৎ আপনি আলাদা কিছু না লিখলে এখন V8.2-তেই ছবি তৈরি হচ্ছে।
কিন্তু এখানে একটা ফাঁদ আছে। V8 ধারায় কিছু পুরোনো ফিচার এখনো পুরোপুরি ফেরেনি। যেমন Draft Mode, Turbo মোড আর অ্যানিমে মডেল Niji এখনো V7-তেই আটকে আছে। Omni Reference (--oref) V8-এ দিলেও আসলে V7 মডেল দিয়েই ছবি বানানো হয়। আর আগস্টের শেষ থেকে নতুন একটি Edit Model পরীক্ষামূলকভাবে চালু হয়েছে, যেখানে একসাথে চারটি পর্যন্ত রেফারেন্স ছবি দিয়ে নির্দেশ-ভিত্তিক এডিট করা যায়।
বাস্তবে এর মানে কী? সাধারণ ছবির জন্য ডিফল্ট V8.2 ব্যবহার করুন। কিন্তু যদি একই চরিত্র একাধিক ছবিতে ধরে রাখতে হয়, কিংবা অ্যানিমে স্টাইল দরকার হয়, প্রম্পটের শেষে --v 7 বসিয়ে V7-এ ফিরে যান। কোন ফিচার কোন ভার্সনে চলে, তার হালনাগাদ তালিকা Midjourney-র ডকুমেন্টেশনের Version পাতায় আছে।
ভালো প্রম্পট কীভাবে লিখবেন
Midjourney-র প্রম্পট সাধারণ ইংরেজি বাক্যের মতো, তবে সাজানোর একটা ক্রম মেনে চললে ফল অনেক ভালো আসে।
প্রথমে বিষয়। তারপর পরিবেশ ও ঘটনা। তারপর স্টাইল ও মাধ্যম। শেষে আলো, ক্যামেরা আর প্যারামিটার।
একটা দুর্বল প্রম্পট:
a village
এবার একই বিষয় একটু গুছিয়ে:
a small riverside village in Bangladesh at dawn, fishermen pushing wooden boats into mist, soft golden light, documentary photograph, 35mm lens, muted colors --ar 16:9
দ্বিতীয়টায় কে, কোথায়, কখন, কেমন আলোয়, কোন ধরনের ছবি, সবই বলা আছে। Midjourney-কে অনুমান করার জায়গা কম দিলে আপনার মাথার ছবির কাছাকাছি পৌঁছানো সহজ হয়।
কয়েকটি অভ্যাস কাজে লাগে:
ইংরেজিতে লিখুন। বাংলা প্রম্পট কিছুটা বুঝলেও ফলাফল অনিয়মিত হয়।
নির্দিষ্ট শব্দ বেছে নিন। "সুন্দর" বা "ভালো" লিখে লাভ নেই। "সকালের নরম আলো", "ক্লোজ-আপ", "বৃষ্টি-ভেজা রাস্তা", এ ধরনের শব্দ ছবিতে সত্যিই ছাপ ফেলে।
মাধ্যম বলে দিন। ফটোগ্রাফ, তেলরঙ, জলরঙ, পেন্সিল স্কেচ, 3D রেন্ডার, ফ্ল্যাট ভেক্টর, প্রতিটা ভিন্ন ফল দেয়।
যা চান না, তা --no দিয়ে বাদ দিন। যেমন --no text, watermark।
একবারে একটাই বদল। ছবি মনমতো না হলে পুরো প্রম্পট ফেলে দেবেন না। শুধু আলো, কিংবা শুধু ক্যামেরার কোণ বদলে দেখুন। কোন বদলে কী হলো, তাতে বোঝা যায়।
কাজের প্যারামিটার
প্যারামিটার হলো প্রম্পটের শেষে বসানো ছোট নির্দেশ, যেগুলো -- দিয়ে শুরু হয়। ওয়েব অ্যাপে এগুলো বোতাম দিয়েও বদলানো যায়। সবচেয়ে বেশি লাগে এই কয়টি:
--ar: ছবির অনুপাত।--ar 16:9ওয়াইডস্ক্রিন, ইউটিউব থাম্বনেইল বা ব্লগের ফিচার ছবির জন্য।--ar 1:1ফেসবুক আর ইনস্টাগ্রামের বর্গাকার পোস্টের জন্য।--ar 9:16রিলস বা শর্টসের জন্য।--stylizeবা--s: Midjourney-র নিজস্ব নান্দনিকতা কতটা চাপাবে, তার মাত্রা। মান ০ থেকে ১০০০। কম মানে আপনার লেখার কাছাকাছি, বেশি মানে Midjourney-র নিজের রুচি বেশি প্রাধান্য পায়।--chaos: চারটি ছবি একে অপরের থেকে কতটা আলাদা হবে। মান ০ থেকে ১০০। নতুন আইডিয়া খুঁজছেন? বাড়িয়ে দিন। নির্দিষ্ট কিছু চান? কম রাখুন।--weird: অদ্ভুত, অপ্রচলিত ফল চাইলে। মান ০ থেকে ৩০০০।--raw: Midjourney-র নিজস্ব সাজসজ্জা কমিয়ে আপনার প্রম্পটের কাছাকাছি থাকতে বলে। বাস্তবসম্মত ফটোর জন্য কাজে লাগে।--hd: V8-এ সরাসরি 2K রেজোলিউশনে ছবি। তবে এতে খরচ বেশি পড়ে।--seed: একই সংখ্যা দিলে প্রায় একই ফল ফিরে আসে। কোনো বদল পরীক্ষা করতে চাইলে সুবিধা।--v: কোন ভার্সনে ছবি হবে তা ঠিক করে, যেমন--v 7।
স্টাইল, Personalization আর Moodboard
একই ধরনের ছবির সিরিজ বানাতে হলে, যেমন এক ব্র্যান্ডের সব পোস্ট একই চেহারার, তিনটি টুল সবচেয়ে কাজের।
Style Reference (--sref)। একটা ছবির লিংক বা কোড দিলে Midjourney সেই ছবির রং, টেক্সচার আর মেজাজ ধার করে, বিষয়বস্তু নয়। --sw দিয়ে সেই প্রভাব কতটা হবে (০ থেকে ১০০০) ঠিক করা যায়। --sref random দিলে এলোমেলো একটা স্টাইল কোড মেলে, যেটা পরে আবার ব্যবহার করা যায়। নতুন নান্দনিকতা খোঁজার জন্য এটা মজার পথ।
Personalization (--p)। ওয়েবসাইটে আপনাকে জোড়া জোড়া ছবি দেখিয়ে কোনটা বেশি পছন্দ জিজ্ঞেস করা হয়। যত বেশি রেট করবেন, Midjourney আপনার রুচি তত ভালো বোঝে। এরপর প্রম্পটের শেষে --p বসালেই সেই রুচি প্রয়োগ হয়। V8.2-তে এই অংশেই সবচেয়ে বড় উন্নতি হয়েছে বলে জানিয়েছে Midjourney। একটা নতুন V8.2 প্রোফাইল বানিয়ে নিন, পুরোনোটা মুছে ফেলবেন না। দুটো পাশাপাশি তুলনা করা যায়।
Moodboard। নিজের পছন্দের একগুচ্ছ ছবি জমা করে একটা কাস্টম স্টাইল বানানো। কোনো ক্লায়েন্টের ব্র্যান্ডের জন্য নিজস্ব চেহারা তৈরি করতে এটা বেশ কার্যকর।
ছবি দিয়ে ছবি বানানো
শুধু লেখা নয়, ছবি দিয়েও Midjourney-কে নির্দেশ দেওয়া যায়।
Image Prompt হিসেবে একটা ছবি প্রম্পটের সাথে জুড়ে দিলে ও সেটাকে ভিত্তি ধরে নতুন ছবি আঁকে। --iw দিয়ে ঠিক করা যায় ছবির প্রভাব কতটা হবে।
একই চরিত্র বা বস্তু আলাদা আলাদা দৃশ্যে রাখার কাজটা V7-এ Omni Reference করত। V8 ধারায় এর জায়গা নিচ্ছে নতুন Edit Model, যেটা এখনো পরীক্ষামূলক পর্যায়ে। যেদিন এটা পুরোপুরি স্থিতিশীল হবে, চরিত্র-ধারাবাহিকতার কাজ আরও সহজ হবে বলে আশা করা যায়। ততদিন এই কাজের জন্য V7 হাতের কাছে রাখুন।
GPU সময় বাঁচানোর কৌশল
Midjourney-র আসল খরচ GPU সময়, তাই কয়েকটি অভ্যাস মাসের শেষে টাকা বাঁচায়।
- ধীরে চলা কাজ Relax মোডে করুন। Standard বা তার ওপরের প্ল্যানে Relax সীমাহীন। জরুরি নয় এমন সব পরীক্ষা এখানে সেরে ফেলুন।
- ছোট করে শুরু করুন। আইডিয়া যাচাইয়ের সময় সবচেয়ে ভারী সেটিং চালাবেন না। পছন্দ হলে তারপর উচ্চ মানে যান।
- বিশেষ ফিচারের খরচ জানুন। V8-এ
--hd,--q 4,--srefআর moodboard-এর খরচ সাধারণ ছবির প্রায় চার গুণ পর্যন্ত হতে পারে। এগুলো বেছে বেছে ব্যবহার করুন। - প্রম্পট আগে পাকা করুন। সময় নষ্ট হয় এলোমেলো প্রম্পটে বারবার চেষ্টা করে। ChatGPT বা Gemini দিয়ে বর্ণনা গুছিয়ে নিয়ে তারপর Midjourney-তে দিতে পারেন।
- সব ছবি বড় করবেন না। শুধু সেরাটাই আপস্কেল করুন।
বাণিজ্যিক ব্যবহার ও সীমাবদ্ধতা
পেইড সাবস্ক্রাইবারেরা তাঁদের বানানো ছবি বাণিজ্যিক কাজে ব্যবহার করতে পারেন। তবে বছরে ১০ লক্ষ ডলারের বেশি আয়ের কোম্পানির জন্য Pro বা Mega প্ল্যান নেওয়া বাধ্যতামূলক। শর্তগুলো প্রায়ই হালনাগাদ হয়, তাই ক্লায়েন্টের কাজে ব্যবহারের আগে অফিসিয়াল Terms of Service পড়ে নিন।
আরেকটি জিনিস মনে রাখবেন। Basic আর Standard প্ল্যানে বানানো ছবি পাবলিক গ্যালারিতে অন্যরা দেখতে পায়। গোপন প্রজেক্ট, ক্লায়েন্টের অপ্রকাশিত ডিজাইন কিংবা ব্যক্তিগত ছবির কাজ Stealth মোড ছাড়া করা ঠিক নয়।
আর পরিচিত চরিত্র, ব্র্যান্ডের লোগো বা বাস্তব মানুষের মুখ বানানোর চেষ্টা করবেন না। এতে কপিরাইট ও আইনি জটিলতার ঝুঁকি আছে, আর Midjourney-র নিজের নীতিতেও আপত্তি আছে।
নতুনদের সাধারণ ভুল
ছবির ভেতর বাংলা লেখা চাওয়া। বাংলা হরফ প্রায়ই বিকৃত আসে। ছবিটা খালি জায়গা রেখে বানিয়ে, তারপর Canva বা ফটোশপে লেখা বসানোই নিরাপদ।
প্রথম ছবিতেই সন্তুষ্ট হতে চাওয়া। Midjourney-তে চার-পাঁচ ধাপের পরিমার্জন স্বাভাবিক। গ্রিড থেকে একটা বেছে, Vary দিয়ে, প্রম্পট সামান্য বদলে এগোতে হয়।
লম্বা প্রম্পটে সব কিছু ঠেসে দেওয়া। পঞ্চাশটা শব্দ থাকলেও কয়েকটা অগ্রাহ্য হয়ে যেতে পারে। প্রধান জিনিসগুলো শুরুতে রাখুন।
ভার্সন খেয়াল না করা। কোনো ফিচার কাজ করছে না মনে হলে প্রথমে দেখুন, আপনি কোন মডেলে আছেন।
Basic প্ল্যানে ভারী ব্যবহার। ২০০টির মতো গ্রিডে মাস পার করা কঠিন। নিয়মিত ব্যবহার হলে Standard ভালো।
প্রায়ই জিজ্ঞেস করা প্রশ্ন
Midjourney কি ফ্রিতে ব্যবহার করা যায়?
না। সরাসরি ফ্রি ট্রায়াল বা ফ্রি প্ল্যান কিছুই নেই। সবচেয়ে সস্তা প্ল্যান মাসে ১০ ডলার। বিনামূল্যে ছবি বানাতে চাইলে Gemini, Copilot বা Perchance-এর মতো টুল দেখুন। সেগুলো নিয়ে আমাদের আলাদা লেখা আছে।
Discord ছাড়া চলে?
চলে। এখন ওয়েব অ্যাপ দিয়েই পুরো কাজ করা যায়, Discord লাগে না।
বাংলায় প্রম্পট লিখলে কি হবে?
কিছুটা বুঝবে, কিন্তু ফল অনিয়মিত। ইংরেজি প্রম্পটে সবচেয়ে ভালো কাজ হয়।
মোবাইলে ব্যবহার করা যায়?
ব্রাউজারে ওয়েব অ্যাপ খুলে মোবাইল থেকেও কাজ চালানো যায়।
Midjourney না ChatGPT, কোনটা ভালো?
নান্দনিকতা আর শৈল্পিক ছবির জন্য Midjourney। ছবির ভেতর লেখা, নির্দেশ ঠিকঠাক মানা, আর কথোপকথনে ছবি ঠিক করার জন্য ChatGPT। অনেকে দুটোই ব্যবহার করেন, এক টুলে আইডিয়া গুছিয়ে অন্য টুলে ছবি বানান।
একই চরিত্র একাধিক ছবিতে কীভাবে রাখব?
এখন সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য উপায় V7 মডেলে Omni Reference ব্যবহার। V8-এর নতুন Edit Model এই কাজ নিজের হাতে নিচ্ছে, তবে সেটা এখনো পরীক্ষামূলক।
শেষ কথা
Midjourney শেখা মানে প্রম্পটের ভাষা শেখা আর নিজের রুচি চেনা। প্রথম সপ্তাহে ছবিগুলো হয়তো আপনার কল্পনার অনেক দূরে থাকবে। কিন্তু প্যারামিটার বুঝে, স্টাইল রেফারেন্স আর Personalization কাজে লাগিয়ে, দুই-তিন সপ্তাহের মধ্যে হাত বসে যায়।
শুরুর জন্য একটা সহজ পরিকল্পনা: একটা মাসের জন্য Standard নিন, রোজ দশ মিনিট সময় দিন, একই বিষয়ে আলাদা আলাদা স্টাইলে পাঁচটা ছবি বানান, আর কোন বদলে কী ফল এল তা খাতায় টুকে রাখুন। মাস শেষে আপনার নিজস্ব প্রম্পটের একটা ভাণ্ডার থাকবে, যেটা যেকোনো গাইডের চেয়ে মূল্যবান।
ছবি বানানো কনটেন্ট তৈরির একটা ধাপ মাত্র। স্ক্রিপ্ট, ভয়েসওভার, ভিডিও আর এডিটিং মিলিয়ে পুরো প্রক্রিয়া অটোমেট করতে চাইলে Banglay AI-এর AI Video Automation কোর্সটি দেখতে পারেন।